লক্ষ্মী পেঁচা
Barn Owl
(Tyto alba)
হরতনের মতো অদ্ভুদ গোল চাকতি মুখ। তার মধ্যে বেশ বড় বড় দুটি চোখ। ঠোঁট লম্বাটে। নাকের ছিদ্র ডিম্বাকার। শরীরের উপরের পালক হলদেটে-লাল ও ধূসর, তার উপর সর্বত্র কালো-সাদা ছিট। ঘাড় ও ডানা হলদে-পাটকিলে। ঠোঁটের রঙ মাংসল সাদা। পা ও আঙুল মাংসল। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। ওড়ার সময় শরীরের নিচের সাদা পালক দেখা যায়।
ছোট পাখি, ইঁদুর, টিকটিকি-গিরগিটি, চামচিকে, ব্যাঙ ইত্যাদি প্রধান খাদ্য। তবে সাপের মাংসতেও কোন অরুচি নেই। সবচেয়ে প্রিয় ইঁদুর, এই জন্য এই লক্ষ্মী পেঁচাকে চাষীরা বন্ধু ভাবে।
সাধারণত রাতেই সে খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। তবে দিনের বেলাতেও তাকে শিকার করতে দেখা গেছে।
গাছের কোটরে বাসা বানায়। সন্ধ্যার পর থেকে চিৎকার চেঁচামেচিতে চারপাশ সন্ত্রস্ত করে তোলে।
খেতের মধ্যে বসার উপযোগী ডাল, বাঁশ বসিয়ে দিলে একটা লক্ষ্মী পেঁচা এক রাতে বার তেরোটা ইঁদুরকে সাবাড় করতে পারে।
সুকুমার রায় লিখেছেন-"প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি, খাসা তোর চেঁচানি।"
জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন-
"কদমের ডালে আমি শুনেছি যে লক্ষ্মীপেঁচা গেয়ে গেছে গান
নিশুতি জ্যোৎস্না রাতে, - টুপ টুপ টুপ টুপ সারারাত ঝরে



0 টি মন্তব্য:
Post a Comment